April 20, 2026, 12:57 am

মতলবে স্বামীর দেওয়া গরম পানিতে ঝলসে গেল স্ত্রীর শরীর

মতলব প্রতিনিধি: সকালবেলা ভাত রান্না করতে দেরি হওয়ায় স্বামীর দেওয়া গরম পানিতে ঝলসে গেল স্ত্রী নাসিমা বেগমের শরীর। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মতলব উত্তর উপজেলার শাহবাজকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাসিমা বেগম বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

পারিবারিক ও সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর পূর্বে মতলব দক্ষিণ উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে নাসিমার বিয়ে হয় উত্তর উপজেলার শাহবাজকান্দি গ্রামের হাওলাদারের ছেলে সালাউদ্দিন এর সাথে। সালাউদ্দিন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। সাংসারিক জীবনে তাদের ৮ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঘটনার সকালে ভাত রান্না করতে দেরি হওয়ার অজুহাতে সালাউদ্দিন তার স্ত্রীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়। নাসিমার আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে তাকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার বোরহান উদ্দিন জানান, গরম পানির কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা পড়েছে। চিকিৎসা চলছে, সেই সাথে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নাসিমা বেগমের ভাই আলম মুন্সি জানান, বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর এই পর্যন্ত বেশ কয়েকবার সালিশী বৈঠক করতে হয়েছে। সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য যখন যা করার দরকার ছিল তাই করেছি। তবুও সে (সালাউদ্দিন) প্রায়ই আমার বোনকে মারধোর করে। গত তিন মাস আগেও মারধর করে কোমরের হাড় ভেঙে দিয়েছিল, সেই চিকিৎসাও আমরা করিয়েছি। বোনের ননদ কুলসুমা ও তার স্বামী বিল্লাল হোসেন একই বাড়িতে বসবাস করে। কুলসুমা আমার বোনকে বিভিন্নভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে।

এ বিষয়ে নাসিমার স্বামী সালাউদ্দিন জানান, তারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়। মূলত বাজার থেকে আনা তরকারি রান্না করে বাড়ীর মানুষদের দেখানোর বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই তরকারি গরম পানি তার শরীরে পরে। তিন মাস পূর্বে মারধরের বিষয়টিও মিথ্যে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা